চীন থেকে পণ্য আমদানি করার নিয়ম: ধাপে ধাপে
আপডেট:
দুইভাবে আমদানি করা যায়
নিজে সরাসরি আমদানি করলে লাইসেন্স, ব্যাংক আর কাস্টমসের কাগজপত্রের কাজ নিজেকেই সামলাতে হয়। বড় আর নিয়মিত চালানে এটা লাভজনক হতে পারে।
ছোট আর মাঝারি ব্যবসার জন্য সহজ পথ হলো সোর্সিং সার্ভিস: পণ্য কেনা, চীনের ওয়্যারহাউসে জমা, শিপিং আর কাস্টমসের কাজ সার্ভিসই করে, আপনি বাংলাদেশে পণ্য বুঝে নেন। নিচের ধাপগুলো এই পথের।
ধাপ ১: পণ্য বাছাই
কোন পণ্য আনবেন সেটা ঠিক করুন আপনার ক্রেতা কারা আর দেশে সেটা কত দামে বিক্রি হয় দেখে। পাতায় পিস প্রতি দাম, সর্বনিম্ন পিস (MOQ) আর ওজন দেখে নিন।
- দেশের বাজারে একই পণ্যের দাম যাচাই করুন, শুধু ছবি দেখে নয়।
- ভারী আর বড় পণ্যে শিপিং খরচ বেশি, তাই ওজনটা আগে দেখুন।
- প্রথম অর্ডারে অল্প পিস নিয়ে মান আর চাহিদা যাচাই করুন।
ধাপ ২: অর্ডার আর অগ্রিম
অর্ডারের সময় পণ্যের দামের 70% অগ্রিম দিতে হয়। বাকি 30% আর শিপিং চার্জ পণ্য বাংলাদেশে আসার পর।
ধাপ ৩: চীনে কেনা আর চেক
সাপ্লায়ারের কাছ থেকে কিনে পণ্য চীনের ওয়্যারহাউসে আনা হয়। সেখানে গুনে, দেখে প্যাক করা হয়। কোনো পণ্য কেনা না গেলে তার দাম বিল থেকে বাদ যায়।
ধাপ ৪: শিপিং আর কাস্টমস
এয়ারে সাধারণত ১০–১৫ দিন, সমুদ্রপথে ৩৫–৪৫ দিন লাগে। পণ্যের ধরন অনুযায়ী এয়ারে কেজি প্রতি ৳650–৳1,150, সমুদ্রপথে ৳220–৳450; কাস্টমস ডিউটি এই রেটের মধ্যেই ধরা।
কম ওজনের দামি পণ্যে এয়ার ভালো, ভারী আর বড় চালানে সমুদ্রপথ অনেক সস্তা।
ধাপ ৫: বাকি টাকা আর ডেলিভারি
বাংলাদেশে পৌঁছানোর পর আসল ওজন মেপে শিপিং বিল হয়। বাকি টাকা দিলে পণ্য ডেলিভারি দেওয়া হয়।
নতুনদের সাধারণ ভুল
- শুধু পণ্যের দাম দেখে লাভ হিসাব করা, শিপিং খরচ বাদ দিয়ে।
- প্রথম অর্ডারেই অনেক টাকার এক রকম পণ্য আনা।
- ঈদ বা মৌসুমের পণ্য দেরিতে অর্ডার করা; সমুদ্রপথে দেড় মাস ধরে রাখুন।
শিপিং রেট দেখুন শিপিং ও কাস্টমস চার্জ পাতায়, আর খরচ হিসাব করুন আমদানি খরচ হিসাব দিয়ে।